দেশের প্রথম ডিজিটাল কাস্টমস হাউস বেনাপোল

৫ মে, ২০২১ ১৩:২৩  
আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল, রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও শুল্কায়নে স্বচ্ছতা আনতে বিকম নামে একটি নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছে বেনাপোল কাস্টমস হাউস। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বেনাপোল কাস্টমস হাউসই দেশের একমাত্র ডিজিটাল কাস্টমস হাউসে উন্নীত হলো। মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সফটওয়্যার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, এটি বেনাপোলে প্রথম চালু হলো। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কাস্টমস হাউসেও এই সফটওয়্যার চালু করা হবে। কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কশিনার ড. নেয়ামুল ইসলাম জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক ও পণ্যের তথ্য সংগ্রহ করতে জিরো পয়েন্টে ইতোপূর্বে কার্গো শাখায় কাস্টমস, বন্দর ও বিজিবি যৌথভাবে কাজ করতো। ফলে একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে সময় লাগতো ৩০ মিনিট। বর্তমানে বিকম সফটওয়্যারের মাধ্যমে বারকোড ব্যবহার করায় সময় লাগছে মাত্র ৫ মিনিট। বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হয় ভারত থেকে। ভারতীয় এসব ট্রাকের অবস্থান ও কোন শেডে পণ্য আনলোড হচ্ছে তা মুহূর্তেই জানা যাচ্ছে বিকমের মাধ্যমে। আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টের ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের ঝুঁকি বিশ্লেষণ দ্রুত সম্ভব। দেশের যে কোনো স্থানে অবস্থান করেও আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাকের সুনির্দিস্ট স্থান নির্ণয় করা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মুহূর্তেই বকেয়া রাজস্ব, ব্যাংক গ্যারান্টি, আন্ডারটেকিং ও সিএন্ড এফ এজেন্ট লাইসেন্সের সকল তথ্য একযোগে যে কোন অফিসার জানতে পারছেন। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, ড. নেয়ামুল ইসলামের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে এই প্রথম কাস্টমস হাউসে বিকম সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি মডিউলের মাধ্যমে আমদানি রফতানি বাণিজ্য গতিশীল, শুল্কায়নে স্বচ্ছতা ও প্রতিদিন পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত মনিটরিং, চোরাচালানি পণ্য আটকসহ কাস্টম ও বন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করছেন কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনারসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বন্দরের গুদামে সংরক্ষিত বাজেয়াপ্ত মালামালের অবস্থান নিশ্চিত করা, পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতি করা সম্ভব নয় এ ধরনের সফটওয়্যারে। ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পণ্য দ্রুত খুঁজে বের করা সম্ভব এর মাধ্যমে।